জ্যোতিবাবু সম্বন্ধে কেউ নস্টালজিয়ায় থাকতে পারেন কিন্তু সত্যিটা জানা যাক :
---------
জ্যোতি বসুর জীবনী একটা সম্পূর্ণ বেইমানির কালো ইতিহাস, যা আবার হাওড়ার এক কুখ্যাত ডনেরনাতনির জন্যে খবরে l জ্যোতি বসু সম্পর্কে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ১৯৯২-৯৩ তে 'দেশ' পত্রিকায় একটা লেখা লেখেন l সেখানে উনি বলেন জ্যোতি বসু বিলেতে যান ICS দিতে এবং ওখানে লন্ডনের সেরা প্রাইভেট টিউটর দেয়া হয় ওঁনার জন্যে l সিদ্ধার্থবাবু বলেন, জ্যোতি বাবুর শিক্ষার পিছনে যত টাকা খরচ হয় সেই টাকায় আমাদের দেশের ১০০ ছাত্রকে পড়ানো যেত l কিন্তু ৪ বার দিয়ে পাশ করেন নি উনি l এরপর ব্যারিস্টারি বেছে নেন l সেখানেও ৪ বার ফেল করে ছয় বছরের ছোট সিদ্ধার্থ রায়ের সঙ্গে পাশ করে l আর তাই সিদ্ধার্থবাবু ৬ বছরের ছোট হয়েও ওনাকে জ্যোতি দাদা না বলে জ্যোতি বলতেন l
দেশে ফিরে কমিউনিস্ট পার্টি l প্রথমে সোভিয়েত ইউনিয়নের নির্দেশের ৪২ আন্দোলনের বিরোধীতা l এরপর সেই সোভিয়েতের নির্দেশে রোজ নেতাজীকে গালাগালি এবং পি সি যোশির সঙ্গে পুরো পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তান বানানোর চক্রন্তে সামিল l ডিরেক্টর অ্যাকশন ডে দেখার পরে বোঝেন পাকিস্তান হলে আর থাকা যাবে না l শেষে ডঃ শ্যামাপ্রসাদের কথা শুনে নাকখত দিয়ে বাংলাভাগের পক্ষে ভোট l
দেশভাগের পরে প্রথমে বাঙালদের ক্ষেপানো l বিধান রায়কে বুর্জোয়া বলা এবং দেশের ইতিহাসের অন্যতম সৎ রাজনীতিবিদ প্রফুল্ল সেনকে চোরের অপবাদ দিয়ে ১৯৬৭ তে জিতে প্রথমবার জিতে উপমুখ্যমন্ত্রী l এরসময় ৫ বছর শুধু দাঙ্গা, বিড়লা পেটানো, কারখানা বন্ধ, গোপাল সেন হত্যা, সাঁইবাড়ীর মত হত্যা এবং গণটোকাটুকি এবং সিদ্ধার্থ রায়ের পাল্টা মার l ১৯৭৭ এ ক্ষমতায় এসে সাঁই বাড়ীসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের অপরাধীদের জেল থেকে বের করে তাঁদের নতুন নাম এবং পরিচয়পত্র দিয়ে কাউকে মন্ত্রী (নিরুপম সেন ), কাউকে সাংসদ (অনিল বসু ), কাউকে যাদবপুরের রেজিট্রার (রজত ব্যানার্জী ) এবং যে ৪ পাশ তাঁকে পার্টির বড় নেতা (বিনয় কোনার ) বানিয়ে সমাজকে রসাতলে পাঠানো l মমতা ব্যানার্জী যেমন চিংড়িঘাটা মেট্রো বাধা দেন, জ্যোতি বসু পুরো কলকাতা মেট্রো প্রকল্পই বাধা দেন l এছাড়া কম্পিউটার ঢুকতে না দেয়া, CESC কে দিয়ে বাংলা লুট, ইংরেজী তুলে দেয়া, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে রাস্তায় অপমান, বহু হেড মাস্টার খুন (তার মধ্যে একজন আমার স্কুল দমদম কুমার আশুতোষ ব্রাঞ্চ ), CITU কে দিয়ে আইএএস পেটানো, ক্যাডারদের বৌকে স্কুল কলেজের শিক্ষক বানানো, উচ্চ শিক্ষায় ৯৯% সংরক্ষণ, (বাকী ১ % তরমুজদের ), যুগান্তর, বসুমতি বন্ধ, ৫০০০০ এর উপর কারখানা বন্ধ এবং ৫৫০০০ খুন ইত্যাদি বহু কীর্তি l
শেষে আসি উনি কত আয় করলেন? ওঁনার সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের নেতা মন্ত্রীদের চুক্তি হত যে উনি ওই রাজ্যের মন্ত্রীদের কাজ দেবেন, আর বদলে ওঁনার ছেলেকে কাজ দেবে তারা l যেমন কমল নাথ WBSEB র কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি করতো এবং তার বদলে চন্দন বোস ও নিরঞ্জন সেনগুপ্তর ভাইপো কাজল সেনগুপ্তর কোম্পানি সেনবো দিল্লীতে ব্রিজ ও মেট্রো বানানোর কাজ পায় l তারপরে কলকাতা মেট্রো এবং কলকাতার বহু ব্রিজ l জীবনের শেষে উনি চন্দনকে ৭০০ টাকা কেরানী থেকে কয়েক হাজার কোটির মালিক বানিয়ে ছাড়েন l ব্যারিস্টারি করলে সেটা সম্ভব ছিল না l কারণ সিদ্ধার্থ রায় 'দেশ' পত্রিকার ওই লেখায় বলেন জ্যোতি বসু আইন বুঝতেন না বলে বিচারকের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন না l টুকে পাশ করা ছাত্রদের যে দশা হয় আর কি l সেই সময় জ্যোতি বসু ক্ষমতার শীর্ষে l রোজ একের পর এক খুন করছেন তার পার্টিকে দিয়ে l কিন্তু মানহানি মানলা করেন নি l যাতে জানাজানি না হয় l
জ্যোতি বাবুর আমাদের জীবনে একটাই ভূমিকা l আর এখানেই বিতর্ক শেষ l তা হল উনি ২৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গর স্বাস্থ্য শিক্ষা শিল্প বাণিজ্য কৃষি এবং সমাজের সর্বনাশ করে শুধু ক্ষান্ত হন নি, মৃত্যুর আগে ওঁনার প্ৰিয় ছাত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী করার সব রাস্তা তৈরি করে গেছেন, আরও ১৫ বছর রাজত্ব করে রাজ্যের বাকী সর্বনাশটা করে যাওয়ার জন্যে l ওঁনার মৃত্যুর এক বছর পরেই ওঁনার ছাত্রী মুখ্যমন্ত্রী হন ১৫ বছরের জন্যে এবং দ্বিতীয় চন্দন তৈরি করেন l
সুদীপ্ত গুহ










